করোনাকালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বৈশ্বিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে : আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করছে। এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে দেশ পিছিয়ে যাবে। তিনি আজ জুম অনলাইনে আইটি-আইটিইএস খাতের ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের জন্য ‘অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেশন ফর ম্যানেজমেন্ট প্রোফেশনাল (এসিএমপি) ৪.০ গ্রীষ্মকালীন ২০২০’ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। এলআইসিটি প্রকল্প এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাত আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম ও আইটি-আইটিইএস পলিসি অ্যাডভাইজার সামি আহমেদ, আইবিএ’র এমডিপি সমন্বয়ক সুতপা ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ।
অনুষ্ঠানে আইবিএ’র অধ্যাপক শেখ মোরশেদ জাহান আইসিটি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) এলআইসিটি প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাবির আইবিএতে চালু হওয়া এসিএমপি বা মিডল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিংয়ের (এমএমটি) সামগ্রিক দিক তুলে ধরে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।
পলক দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিকালে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ, ই-কমার্সে কেনাকাটা বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ৫০ লাখ। দুর্যোগ, মহামারিরকালে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেই অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল রাখার এটি একটি প্রকৃষ্টতম উদাহরণ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোবট, মেশিন লার্নিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা অ্যানালাইটিক্সের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিই হবে আগামী দিনের অর্থনীতিসহ জীবনযাত্রার চালিকা শক্তি। এজন্য সবারই এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে আইসিটি বিভাগের এলআইসিটি প্রকল্প ও আইবিএ এসিএমপি ৪.০ কোর্স চালু করে মূলত ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি আইটি প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এলআইসিটি প্রকল্পের আওতায় এসিএমপি ৪.০ কোর্সে ১১৫টি আইটি-আইটিইএস কোম্পানির মধ্যম এবং শীর্ষ পেশাজীবীদের ২৪০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। এরআগে ২০১৭ সালে একই প্রকল্পের আওতায় ৬৩৬ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুকে আমরা..