গ্রীসের মানোলাদার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে ব্যাপক উদ্যোগ

গ্রীসের মানোলাদায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং গ্রীসের স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজ গ্রীসে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম গ্রীসের মানোলাদা নামক স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক বসবাস করেন। তারা মূলত গ্রীক কৃষিখামার বিশেষত স্ট্রবেরি এবং তরমুজ খামারে কাজ করেন।
করোনাকালে তাদের কল্যাণে উদ্যোগের অংশ হিসাবে গত ২৩ জুলাই গ্রীসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন সেখানকার মেয়র ইয়ানিস লেন্তাসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন।
র্ভাদা শহরে অবস্থিত মিউনিসিপালিটি অফিসে এই বৈঠকে তারা বাংলাদেশী শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা করেন।
দুই ঘণ্টা ব্যাপী দীর্ঘ বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, মানোলাদায় বসবাসরত শ্রমিকগণ গ্রীস ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। এই করোনাকালীন সংকটের মধ্যেও তারা কঠোর পরিশ্রম করে গ্রীসের কৃষিতে অবদান রাখছেন।
শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত মেয়রকে তাদের আবাসন, স্বাস্থ্যসহ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। যেসব বাংলাদেশী অনিয়মিতভাবে এখানে বসবাস করছেন, তাদেরকে গ্রীক সরকারের বৈধ ডকুমেন্টস প্রদানে সহায়তার জন্য ও তিনি মেয়রকে অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মেয়রকে শ্রমিকদের বাসস্থানসহ আবাসনের অন্যান্য দিক নিয়ে বেশ কিছু ছবি দেখিয়ে এ অবস্থার উন্নয়নে স্থানীয় খামার মালিকদের নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
মেয়র ইয়ানিস বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনের জন্য মিউনিসিপালিটি থেকে জমি দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের চিত্ত বিনোদনের জন্য বিশেষ পার্ক তৈরি করার কথা বলেন মেয়র।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিকগণ যেন কৃষিজমি লিজ নিতে পারেন, সে বিষয়ে জটিলতা দূর করতেও মেয়র আশ্বাস দেন। মানোলাদায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি মসজিদ এবং কবরস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
মেয়র এ বিষয়ে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যৌথ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে জনগণ পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব দৃঢ় করার লক্ষ্যে দূতাবাস এবং মিউনিসিপালিটি একযোগে কাজ করতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে মেয়র মানোলাদায় বসবাসকারী প্রবাসী শ্রমিক এবং বাংলাদেশী ব্যবসায়ীগণ যেন স্থানীয় আইন মেনে চলেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে একমত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুকে আমরা..