ব্রেকিং নিউজ :
‘অনিশ্চিত সময়’ মোকাবেলায় মিউজিক ভিডিও প্রকাশ বাংলাদেশী-মার্কিন বিজ্ঞানীর ওআইসির পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক আগামীকাল ফেনীতে লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করায় জরিমানা সিলেট বিভাগে ২৪ ঘন্টায় করোনায় সুস্থ ৫৬ জন জানুয়ারি থেকে ইএফডিতে ভ্যাট পরিশোধকারীদের জন্য লটারি মেধা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও মননকে দেশের কাজে লাগাতে সরকারি কর্মচারিদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আওয়ামী লীগে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন নীতি অনুসরণ করা হয় : ওবায়দুল কাদের সৌদি সহায়তায় ৮ বিভাগে আটটি ‘আইকনিক মসজিদ’ নির্মিত হবে : প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই ভুয়া অনলাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী তথ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব খাজা মিয়া
  • আপডেট টাইম : 18/11/2020 07:23 PM
  • 10 বার পঠিত

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ২৫৬তম দিনে ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ কমেছে, পাশাপাশি বেড়েছে সুস্থতার হার।
গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ১৮ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৩৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ হাজার ২৭৫ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ১৪ নভেম্বর থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।
আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ হাজার ৪৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ১১১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ১০১ জন কম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ১৫ হাজার ৯৯০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ২১২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ শনাক্তের হার ১ দশমিক ০১ শতাংশ কম।
দেশে এ পর্যন্ত মোট ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৪২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত এই হার ছিল ১৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৩ জন। গতকালের চেয়ে আজ ১৪৪ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৪৯ জন। দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ জন।
আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৮০ দশমিক ৮১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৮ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৬০২ জনের। গতকালের চেয়ে ১ হাজার ৪টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ১১৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৬৯ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৫ হাজার ৯৯০ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৪৭৯টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২৫৭৬ দশমিক ৫০ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ২০৮৩ দশমিক ২৩ জন এবং প্রতি ১০ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৮৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারী ২১ জনের মধ্যে পুরুষ ১৪ জন, আর নারী ৭ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৮২৭ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৪৪৮ জন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ; নারী ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২৪ ঘন্টায় ২১ জনই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের বছরের ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৬ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১৩ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩০ জন; যা দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৯ জন; যা দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১৪৪ জন; যা ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩৩৩ জন; যা ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৭৬৮ জন; যা ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৬৪৮ জন; যা ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ৩ হাজার ৩০৩ জন; যা ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘন্টায় ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৯৬ জন; যা ৫২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ২২৬ জন; যা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩৮৩ জন; যা ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪৮৪ জন; যা ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ২১০ জন; যা ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২৫৯ জন; যা ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২৮৭ জন; যা ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩০ জন; যা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৫টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮৭ জন ও শয্যা খালি আছে ১ হাজার ৫৩৮টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩০৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ২০৮ জন ও শয্যা খালি আছে ১০১টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭৭০টি, ভর্তিকৃত রোগী ১৬৯ জন ও শয্যা খালি আছে ৬০১টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৭ জন ও শয্যা খালি আছে ২২টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ১৬৪টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ৫২৩ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ৬৪১টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৬৬ জন ও শয্যা খালি আছে ১৪৫টি। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১১ হাজার ৪৫৯টি, রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৬৮০ জন এবং শয্যা খালি আছে ৮ হাজার ৭৮০টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৫৯টি, রোগী ভর্তি আছে ২৯১ জন এবং খালি আছে ২৬৮টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬০২টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৬০৪টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৩৯৫টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা http:/app.dghs.gov.bd/covid19-complain লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হওয়া ১ হাজার ৮৯৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১ হাজার ৪৫৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৭ জন, রংপুর বিভাগে ৩৬ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩ জন, সিলেট বিভাগে ৪২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জন সুস্থ হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২২৩ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৬০ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৪ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৯ হাজার ৩৯৯ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১৬৬ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ১৬১ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮৮ হাজার ৯১১ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭১২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ১৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৫ হাজার ৩৬৩ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ১২ লাখ ৫ হাজার ৯৬ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৫টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ফোন এসেছে ৩৮ হাজার ৫০৮টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ২৩৩টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৭১৬টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ২০৪টি।
কোভিড বিষয়ে হটলাইনে ২৪ ঘন্টায় ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ২ হাজার ৩৮৪ জন, এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৬ জন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৯৪ হাজার ৮১৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৪ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৮ জন এবং ১৩ লাখ ২৪ হাজার ২৪৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...