ব্রেকিং নিউজ :
একনেক বৈঠকে ১০ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়সম্বলিত ৭টি প্রকল্প অনুমোদন করোনা নিয়ন্ত্রণে সাংহাইয়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে : বাণিজ্যমন্ত্রী আইসিটি সেক্টরে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ভারত : আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে হবে : ফরহাদ হোসেন শপথ নিলেন নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান ডিএনসিসি মেয়রের সাথে ভারতের রাষ্ট্রদূতের ভার্চুয়াল বৈঠক বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনীরুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি: মেহেদির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দুর্দান্ত জয়ে শুরু রাজশাহীর জাতির পিতাকে জানতে তরুণদের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের আহবান ডেপুটি স্পিকারের
  • আপডেট টাইম : 01/01/1970 05:52 PM
  • 74 বার পঠিত

স্টিফেন হকিং মানবজাতির জন্য এক নম্বর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে। এমন এক দুঃসময় পৃথিবীতে আসবে যখন মানুষ নয়, পৃথিবী শাসন করবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। হকিংয়ের বাণী মিথ্যা হয়নি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে বিনিয়োগ হচ্ছে শত শত কোটি ডলার। তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার স্মার্ট রোবট। তিন দশক পর পৃথিবীতে থাকবে ১০০ কোটি স্মার্ট রোবট। যে বুদ্ধিমত্তা তার স্রষ্টাকে অস্বীকার করবে তার পেছনে এই বিপুল বিনিয়োগ কি মানুষের দূরদর্শী চিন্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না?  সাধারণ রোবটেরই কাজ করার ক্ষমতা স্মার্ট রোবটের তুলনায় অনেক কম। তাতেই কাজ হারাচ্ছে মানুষ। তবে স্মার্ট রোবট কাজ শুরু করলে পৃথিবী থেকে মানুষের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় কী? স্মার্ট রোবট পক্ষীয়রা অবশ্য বিষয়টিকে এত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্ধেক গ্লাস খালি থাকলেও বাকি অর্ধেকে পানি থাকবে বলে আশার বাণী শুনিয়েছেন। বলেছেন, স্মার্ট রোবটের আগমনে মানুষ শুধু কাজ হারাবে না, নতুন অনেক কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। দরকার হবে কোটি কোটি ডাটা অ্যানালিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট। হকিংয়ের মতো চিন্তা করার ক্ষমতা সবার থাকে না। কিন্তু ভালো হতো হকিংয়ের মতো দূরদর্শী চিন্তা করতে না পারলেও বিনিয়োগকারীরা একটু মানবিক চিন্তা করতেন। হকিং হতে না পারুন, পিঁপড়ার সমান চিন্তা করতে পারলেও বিশ্ববাসীর মঙ্গল হতো। পিঁপড়া মৌমাছি স্বগোত্রের ক্ষতি হয় এমন কিছু করে না। বিপরীতমুখী দুই সারি পিঁপড়ার দিকে তাকান। প্রত্যেকটি পিঁপড়া প্রত্যেকের সামনে থেমে শুঁড় উঁচিয়ে বা মাথা ঠোকাঠুকি করে বলে যায় কত অক্ষাংশে, কত দ্রাঘিমাংশে কয় দানা চিনি পড়ে আছে। এভাবে তারা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের সঞ্চয়, নিরাপত্তা। একইভাবে বিপদের কথাও জানিয়ে যায়। কিন্তু পুঁজিতন্ত্র সামষ্টিক মানুষের ভাবনাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। মানুষ এতটাই আত্ম এবং আপাত স্বার্থসর্বস্ব হয়ে উঠেছে যে শুধু বর্তমানের মুনাফাই দেখতে পাচ্ছে সে। ভবিষ্যতের বিপদ দেখতে পাচ্ছে না। রোবটের করা কাজ গুণগত মানে মানুষের চেয়ে ভালো হবে, কম সময়ে বেশি কাজ করিয়ে নেওয়া যাবে, অপেক্ষাকৃত কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে এ এক অলঙ্ঘনীয় টোপ। মুনাফার এই লোভ পুঁজিবাদী বিশ্বের পক্ষে ছেড়ে দেওয়া খুবই মুশকিল। কিন্তু ওই যে পুঁজিবাদ শুধু মুনাফার লোভই তৈরি করতে পেরেছে। এই মুনাফাই যে তাকে রসাতলে ডোবাবে সেই চিন্তার সময় পুঁজিবাদীদের নেই। এমনকি তাতে যদি তার বিলুপ্তির আশঙ্কা থাকে তবুও। এরই মধ্যে ৫০টির বেশি দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য রোবট তৈরি করছে, যা মানুষের নির্দেশ ছাড়াই প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে সক্ষম। এ কারণেই হকিং পারমাণবিক বোমার চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানবজাতির জন্য ভয়ংকর বলেছিলেন। পারমাণবিক বোমার সুইচে মানুষের আঙুল না পড়লে পৃথিবী ধ্বংস হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের ধার ধারে না। মানুষ ধ্বংসের জন্য মানুষের নির্দেশের অপেক্ষাও করবে না তাই। তবু ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। কোন শক্তিধর দেশ এর পেছনে কত শত ডলার বিনিয়োগ করবে তা নিয়ে আছে আরেক প্রতিযোগিতা, আরেক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...