ব্রেকিং নিউজ :
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সমৃদ্ধ করতে সকলের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সড়কে শৃংখলা রক্ষায় সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে : জি.এম. কাদের অপরাজনীতিবিদদের পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে : বাহাউদ্দিন নাছিম বেগম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে গেলে ফিরবেন না, এটা ভুল ধারণা: মির্জা ফখরুল দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩৩ জনের মৃত্যু মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ : ওবায়দুল কাদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র-তৎপরতা বাড়াতেই খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে চেয়েছিল বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী বোরো ধান ১০ লাখ টন উৎপাদন বাড়বে : কৃষিমন্ত্রী ভারতে করোনায় আরো ৩ লাখ ২৯ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত বিশ্বকাপ ও ইউরোতে আত্মতুষ্টিতে না ভুগতে ফ্রান্সকে দেশ্যমের সতর্কতা
  • আপডেট টাইম : 05/12/2020 06:05 PM
  • 180 বার পঠিত

হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস আগামিকাল ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে হবিগঞ্জবাসী পেয়েছিলেন স্বাধীনতার স্বাদ। দীর্ঘ ৯ মাসের অবরুদ্ধ পরিবেশের অবসানে আনন্দে উদ্বেল হবিগঞ্জবাসী স্বজন হারানোর বেদনায় থমকে গিয়েছিলেন।
হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ইউনিট।
১৯৭১ সালে ৫ ডিসেম্বর সূর্যাস্তের পর হবিগঞ্জ শহরে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর শোনার জন্য শহরবাসী রেডিওতে কান পেতেছিলেন। এর ক’দিন আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শায়েস্তানগর, উমেদনগর ও খোয়াই নদীর ওপার থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক গুলিবর্ষণের মাধ্যমে তাদের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেছিলেন। শায়েস্তানগর এলাকায় বর্তমানের টেলিফোন এক্সচেঞ্জের স্থানে হানাদার পাকিস্তানি মিলিশিয়াদের একটি ক্যাম্প ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে পর্যুদস্ত হয়ে তারা আগেরদিনই শহর ছেড়ে চলে যায়। পাকিস্তানীদের দালাল এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুলা’র শায়েস্তানগরস্থ বাসভবনে হামলা চালাতে গিয়ে রাজাকারের গুলিতে নিহত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শহীদ হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা শহরে আর কোন প্রতিরোধের সম্মুখিন হননি। রাজাকার, আলবদর আর সামস্ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের মুখে আগের রাতেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
৬ ডিসেম্বরে শীতের সকালে শহরবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের অভিবাদন জানায়। তারা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে মুক্ত হবিগঞ্জ শহরের রাস্তায় নেমে এসে বিজয়ের উল্ল¬াস প্রকাশ করে।
মুক্ত হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটি প্রথমে প্রবেশ করে তার নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদ। তার সাথে ছিলেন সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ, মশাজানের বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল কাইয়ুম, সুলতান মামদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আজিম, সুলতানশীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, হবিগঞ্জ পৌর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রইছ আলী, উমেদনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মিয়া, বাহুবলের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিব মিয়া, রাজিউড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফু মিয়াসহ ৩৫ জন। তারা সকাল ১০টা-১১ টার দিকে পইলের সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। এর আগে তাদের অবস্থান ছিল সাবাসপুর, বক্তারপুর ও সুয়াইয়া গ্রামে। দলটি শহর প্রদক্ষিণ করে হবিগঞ্জ থানায় গিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় স্থানীয় জনগন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদ বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হবিগঞ্জ সদর ইউনিটের কমান্ডার। তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ৩ নং সেক্টরের একটি প্লাটুন ২ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ শহরের পাশে অবস্থান গ্রহন করেন এবং পাকিস্তান বাহিনীর দু’জন দালালকে আটক করে হত্যা করা হয়। পরে ৫ ডিসেম্বর ঘেরাও করা হয় হবিগঞ্জ শহর। ওইদিনই হানাদার পাক সেনার পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে এবং থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি।
একইদিন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জ উপজেলাও হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়।সুত্র:-বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...