ব্রেকিং নিউজ :
জাপানি দুই শিশুকে বাবা-মায়ের দেখার অধিকার নিয়ে আদেশ ২২ জুলাই ’৭১-এর পরাজিত অপশক্তির আস্ফালন মেনে নেওয়া হবে না : ওবায়দুল কাদের তামাকের কারণে বছরে ক্ষতিগ্রস্থ ৭ কোটি ৬২ লাখ মানুষ মানুষের উপকারে আসবে এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী নড়াইলের নলিয়া গ্রামে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৭ দিনাজপুর হিলি স্থল বন্দর দিয়ে ৫০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কোকেনসহ নারী যাত্রী গ্রেফতার নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও করে না : প্রধানমন্ত্রী কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিসা কারখানা নিজেকে রাজাকার বলে স্লোগান দেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, শাস্তির দাবি
  • প্রকাশিত : ২০২৩-১১-২০
  • ৭৯২৬৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। স্কুল কলেজ বিশ^বিদ্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সব ধরণের প্রতিষ্ঠান যথানিয়মে সকাল থেকেই খোলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব স্কুলেই চলমান পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
আজ নগরীর কর্ণফুলী ব্রিজ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি, ওয়াসা মোড়, টাইগারপাস, কাজীর দেউড়ি, বিএনপির প্রধান কার্যালয় নাসিমন ভবন, স্টেশন রোড, নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আমতল, নন্দনকানন, আন্দরকিল্লা, জামালখানসহ নগরীর একটি বিশাল অংশ পরিদর্শন করে এ চিত্র পাওয়া যায়। এ পথের সকল মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল থেকেই যথানিয়মে খোলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব স্কুলে পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ আকতার  জানান, ‘আমার স্কুলে অন্যান্য সময়ের মতো আজও রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা হয়েছে। শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল পরীক্ষায়।’
বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘বিএনপিসহ কয়েকটি দল হরতাল ডাকলেও আমাদের স্কুলে নির্দিষ্ট সময়েই নির্ধারিত পরীক্ষা হয়েছে। আগে আমরা হরতালের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরীক্ষা পিছিয়ে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে আয়োজন করতাম। সাম্প্রতিক সময়ের হরতালগুলোতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হয়নি। ফলে আজকের পরীক্ষাসহ সামনের দিনগুলোতে সব শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক সময়ের মতো চালানো হবে।’
পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদুল আলম  জানান, ‘আমার ওয়ার্ডসহ এ এলাকাতে বিএনপি-জামায়াত সবসময় আন্দোলনের নামে তাদের পেশীশক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করে। কিন্তু আজকের দিনসহ সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে রাজপথে অবস্থান করি। ফলে কোনো অপশক্তি নাশকতা চালানোর সুয়োগ পায় না। আজ অন্য সময়ের মতোই চট্টগ্রাম মহানগরীতে জীবনযাপন স্বাভাবিক ছিল।’
এদিকে, বিএনপির আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস ও বর্বরতারোধে মহানগর আওয়ামী লীগ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১৯ স্পটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করে রাজপথে তাদের অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।
দেওয়ানহাটে ডবলমুরিং থানা আওয়ামী লীগ শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জনগণ বিএনপির আন্দোলনের মতো বিএনপির হরতালও প্রত্যাখ্যান করেছে।
মেয়র বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিদেশি অপশক্তির উস্কানিতে কান না দিয়ে নির্বাচনে এসে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করুন। অতীতের ভুলের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতির মূল ধারায় আসুন। অর্থনীতি ধ্বংসকারী হরতাল ডেকে কোন লাভ হবে না। জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে সন্তুষ্ট। তাই জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে আছে।’
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন দোস্ত মোহাম্মদ। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মো. জাকারিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইদ্রিস কাজেমী, মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক। সঞ্চালনা করেন ওহিদুর রহমান মহসীন।
বিএনপি-জামাতের পরিকল্পিত অরাজকতা নাশকতা এবং অযৌক্তিক অবরোধ কর্মসূচি ও হরতালের বিরুদ্ধে দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন তপন, ৩০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন ইবনে আহমেদ, ২৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক পেয়ারু, ৩৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে আজিজ বাবুল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সাধারণ মানুষ এবং সকল পেশাজীবী জনতা বিএনপি-জামাতের অযৌক্তিক হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাখান করেছে। সারাদেশে জীবনযাত্রাসহ সবকিছু স্বাভাবিক, শুধুমাত্র অস্বাভাবিক বিএনপি-জামাত। তারা হরতাল ডেকে মাঠে নেই। চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে অগ্নিসন্ত্রাস করে জানমালের ক্ষতি করছে। এতেই প্রমাণিত হয় এই দলটি সন্ত্রাসী। দলটির আবাসিক সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী ওসামা বিন লাদেনের কায়দায় ভিডিওবার্তায় কর্মসূচি ঘোষণা করলেও তাদের একজন নেতাকর্মীও মাঠে নেই। জনগণের জানমাল সুরক্ষায় মাঠে আছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এভাবেই জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে।
তারা আরো বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই সারাদেশ আজ উৎসবমুখর। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য রাজধানীতে মানুষের ঢল নেমেছে। এতে প্রমাণ হয়, মানুষ নির্বাচনের পক্ষে এবং শেখ হাসিনার সাথে আছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ টানা চতুর্থ বারের মত শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী আসনে অলংকৃত করবে। এই প্রত্যয় নিয়ে দলের প্রতিটি স্তরের নেতকর্মীদের ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের মনজয় করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat