দেশের কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়ন ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কৃষক কার্ড যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ।
তিনি বলেন, কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর করতে সরকার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই কৃষক কার্ড।
আজ মঙ্গলবার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর কৃষির সূচনা হচ্ছে এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে। এই কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত সেবা প্ল্যাটফর্ম।’
তিনি জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই সময়মতো সার, উন্নতমানের বীজ এবং সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, সময়মতো চাষাবাদ নিশ্চিত হবে এবং কৃষি উৎপাদনে স্থিতিশীলতা আসবে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এই কার্ড হবে ‘হাত শক্ত করার হাতিয়ার’।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যা মৌসুমি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে সাধারণ কৃষকরা সার, বীজ, কৃষিযন্ত্রের জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্যভাবে পাবেন।
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের কৃষিখাতে স্থবিরতা ছিল এবং কৃষকরা নানা ধরনের নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে কৃষিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে তিনি দুর্নীতি পরিহার, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং বেদখলকৃত রেলের জমি উদ্ধার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সবাইকে মজলুমের পক্ষে এবং জুলুমের বিপক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলায় এ কর্মসূচির আওতায় মোট ১ হাজার ৩৬ জন কৃষকের জন্য কার্ড প্রস্তুত করা হলেও টেকনিক্যাল কারণে ৯৩৫টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় দেবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তর চর পাঁচুরিয়া গ্রামে ৩৫৫টি, তেনাপচা গ্রামে ৩৮৮টি, দক্ষিণ চর পাঁচুরিয়া গ্রামে ২৫১টি, দেবগ্রামে ১৮টি এবং অন্যান্য এলাকায় ২৪টি কার্ড বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস প্রমুখ।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম জানান, আগামী শীতে তেনাপচা গ্রামে একটি গ্রামীণ কৃষি মেলার আয়োজন করা হবে এবং চরাঞ্চলে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। দেবগ্রামের কৃষক রিমা খাতুন বলেন, চৈত্র মাসে আর্থিক সংকটের সময় এই কার্ড তাদের পরিবারে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
তেনাপচা গ্রামের আন্না বেগম জানান, ঋণের চাপের মধ্যে এই সহায়তা তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
কৃষক সোলায়মান হক বলেন, স্বল্প জমি থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে চাষ করতে পারছিলেন না, এখন এই সহায়তা তাকে নতুন করে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে।