জি৭ভুক্ত দেশগুলোর পরিবেশবিষয়ক বৈঠক বৃহস্পতিবার প্যারিসে শুরু হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এড়াতে বৈঠকের আলোচ্যসূচি থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের পরিবেশমন্ত্রী মনিক বারবুর দপ্তর জানিয়েছে, দুই দিনের এ বৈঠকে ‘কম বিতর্কিত বিষয়গুলোতে’ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে জি৭-এর সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখা যায়।
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমরা সরাসরি জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার জানা।’
তারা আরও বলেছে, ‘বিশেষ করে এ ফোরামকে রক্ষা করতে আমরা জি৭-এর ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছি।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তার প্রশাসন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক নানা নীতিমালা দুর্বল করে।
জি৭ভুক্ত শিল্পোন্নত অর্থনীতির এ বৈঠকে ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের পরিবেশমন্ত্রীদের পাঠাচ্ছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিত্ব করবেন মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার আন্তর্জাতিক ও উপজাতীয়বিষয়ক দপ্তরের সহকারী প্রশাসক উশা-মারিয়া টার্নার ।
মনিক বারবুর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে সমুদ্র সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অর্থায়ন এবং শুষ্ক অঞ্চলকে মরুভূমিতে রূপান্তরের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে আলোচ্যসূচি থেকে জলবায়ু ইস্যু বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন পরিবেশবাদীরা।
ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের কর্মী গাইয়া ফেব্রেভর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গতিতে চলা কোনো জি৭ শতকের সংকটগুলোর মোকাবিলার দাবি করতে পারে না।’
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা যৌথ উদ্যোগকে দুর্বল করছে এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও ত্যাগ করছে।’
এই বৈঠকের কয়েক দিনের মধ্যেই কলম্বিয়ায় ৫০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে জীবাশ্ম জ্বালানি ধীরে ধীরে বন্ধের লক্ষ্যে প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানিকেই দায়ী করা হয়।
বন ও অর্থায়ন
ফ্রান্স জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর একটি উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে অন্যান্য জি৭ দেশের সমর্থন পাওয়ার আশা করছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আফ্রিকার প্রায় ২০টি দেশের জাতীয় উদ্যান সংরক্ষণে ৮০ কোটি ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিতে চায় ফ্রান্স।
ডব্লিউডব্লিউএফ ফ্রান্সের অ্যাডভোকেসি পরিচালক জ্যঁ বুরকার্ড জি৭-এর আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, এ অর্থায়ন অবশ্যই অতিরিক্ত হতে হবে এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় বাজেটের অন্য খাতের কাটছাঁটের বিকল্প হওয়া উচিত নয়।
জি৭ বৈঠকে মরুকরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা গ্রহণের চেষ্টাও হবে। সমুদ্রবিষয়ক অধিবেশনগুলোতে সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক জোট আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পানিদূষণ নিয়েও আলোচনা হবে। বৃহস্পতিবার প্যারিসের দক্ষিণে ফন্তেনব্লো অরণ্য পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে, যা বন সংরক্ষণবিষয়ক অধিবেশনের অংশ।